1. muktirshongbad@gmail.com : 20dailymuktirshongbadbd.com :
  2. mdkaiumjsc01643@gmail.com : Kaium Hossain :
  3. ramjanbhuiyan84@gmail.com : ramjanbhuiyan :
সোমবার, ০২ অগাস্ট ২০২১, ০৯:৫১ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
বহুল জনপ্রিয় দৈনিক মুক্তির সংবাদ অনলাইন পত্রিকায় সংবাদকর্মী নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।  বাংলাদেশে বিভিন্ন জেলায়, উপজেলায়,দৈনিক মুক্তির সংবাদ পত্রিকা সংবাদকর্মী নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। সারা বাংলাদেশে বিভিন্ন জেলায়, উপজেলায়, জেলা ব্যুরো প্রধান ও বিভাগীয় ব্যুরো প্রধানে কাজ আগ্রহী প্রার্থীগণ সিভি পাঠাতে পারেন। ন্যূনতম যোগ্যতা এস এস সি পাশ।চূড়ান্ত নির্বাচন প্রক্রিয়া:রিক্রুটিং টিম কোন প্রকার একাডেমিক পরীক্ষার ফল বিবেচনা করবে না। কর্মঠ, সৎ ও কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুগত প্রার্থীদের বাছাই করা হবে।E-mail :  muktirshongbad@gmail.com যোগাযোগ নাম্বার:01752602939/01710006400 ।সম্পাদক ও প্রকাশক,মোঃ মাসুদ মৃধাঃ 01933609066

ঠাকুরগাঁও থেকে রংপুর ৯ ঘণ্টা রিকশা চালিয়ে অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে গেলেন বাবা/ দৈনিক মুক্তির সংবাদ

  • খবর পাবলিসের সময় শনিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২১
  • ৪৩ বার পোস্টটি পড়া হয়েছে

 

 

মোঃ আসাদুজ্জামান

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধিঃ

অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ার টাকা না থাকায় ৯ ঘণ্টা রিকশা চালিয়ে ঠাকুরগাঁও থেকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে এসেছেন তারেক ইসলাম নামে এক বাবা।

 

শনিবার (১৭ এপ্রিল) সকাল ৬টার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে ১১০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ পাড়ি দিয়ে বেলা সোয়া তিনটায় রংপুরে পৌঁছান তিনি। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে বারবার হু-হু করে কাঁদতে থাকা তারেক ঢাকা পোস্টকে এ তথ্য জানান।

 

সাত মাস বয়সী শিশু জান্নাত রক্ত পায়খানা করায় গত ১৩ এপ্রিল রাতে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে একদিন চিকিৎসা দেয়ার পর চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য জান্নাতকে রংপুরে রেফার্ড করেন। কিন্তু লকডাউন পরিস্থিতিতে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ার টাকা না থাকায় দিশেহারা হয়ে পড়েন বাবা তারেক। চারদিন ধরে কোনো ব্যবস্থা করতে না পেরে অবশেষে নিজে রিকশা চালিয়ে সন্তানকে নিয়ে রংপুরে আসেন তিনি।

 

শনিবার (১৭ এপ্রিল) বিকেল সোয়া তিনটার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে সন্তানকে কোলে নিয়ে ছুটোছুটি করতে দেখা যায় বাবা তারেক ইসলামকে। তার সঙ্গে থাকা অন্য স্বজনদের চোখে মুখে তখন দীর্ঘ নয় ঘণ্টা রিকশায় চড়ে আসার ক্লান্তির ছাপ।

 

ঢাকা পোস্টকে তারেক ইসলাম বলেন, লকডাউনের কারণে অসুস্থ বাচ্চাকে অনেক কষ্ট করে রংপুরে এসেছি। আমি রিকশা চালাই। অ্যাম্বুলেন্সে করে বাচ্চাকে নিয়ে আসার মতো আমার সামর্থ্য নেই। চারদিন আগেই ডাক্তার বাচ্চাকে রংপুরে নেয়ার জন্য বলেছিল। আমি বাচ্চাকে যে রংপুর নিয়ে আসব এজন্য আমার কাছে এক-দুইশ টাকাও ছিল না। প্রথমে বাচ্চাকে ডাক্তার দেখানো ও ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে ভর্তি করানোর সময় অন্যের কাছ থেকে পাঁচশ টাকা ধার নিয়েছিলাম। এরপর থেকে আমি কোনো দিশা পাচ্ছিলাম না।

 

অসহায় তারেক বলেন, শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) রাতে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতাল থেকে রাতে বাচ্চাকে নিয়ে বাসায় যাই। বাচ্চার কন্ডিশন দেখে আমি চিন্তিত। কিন্তু লকডাউনোর কারণে আমার অবস্থা এতটাই খারাপ যে কালকে কি খাব সেই টাকাও আমার কাছে নেই। এ অবস্থায় আমি কীভাবে বাচ্চাটাকে নিয়ে এত দূরের রাস্তা আসব ভেবে পাচ্ছিলাম না। যখন অ্যাম্বুলেন্সের টাকা জোগাড় করতে পারলাম না। তখন সন্তানকে বাঁচানোর জন্য রিকশা চালিয়ে রংপুরে আসার সিদ্ধান্ত নেই।

 

তিনি আরও বলেন, সকাল ছয়টার দিকে আল্লাহর নাম দিয়ে বাসা থেকে বের হই। রাস্তায় আসতে আসতে তারাগঞ্জের দিকে এসে রিকশায় সমস্যা দেখা দেয়। পরে এক অটোচালক বাচ্চার সমস্যার কথা জেনে আমাকে প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ এগিয়ে দিয়েছে। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছার জন্য বাধ্য হয়ে দুই-তিন কিলোমিটার রাস্তা রিকশাটা ঠেলে নিয়ে আসি। পথিমধ্যে আরেকটা গাড়ি আমাকে মেডিকেল পৌঁছানোর জন্য সহযোগিতা করেন। প্রায় নয় ঘণ্টা পর বাচ্চাকে নিয়ে হাসপাতালে এসে পৌঁছেছি।

 

জরুরি বিভাগ থেকে ভর্তির রশিদ নিয়ে দ্রুত হাসপাতালের পাঁচতলার শিশু বিভাগে (১৮ নং ওয়ার্ড) শিশু জান্নাতকে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দেখার পর কিছু ওষুধ ও স্যালাইন দিয়েছেন। আজকের পর্যবেক্ষণ শেষে অপারেশন করা লাগতে পারে বলে চিকিৎসকের উদ্ধৃতি দিয়ে এ কথা জানান তারেক ইসলাম। কিন্তু অপারেশন করার মতো টাকা তার কাছে নেই। এমনকি চিকিৎসকের লিখে দেওয়া প্রাথমিক পর্যায়ের ওষুধ, স্যালাইন, ইঞ্জেকশন কেনার জন্য একশ টাকাও নেই। এখন আমি কি করব আল্লাহ ছাড়া কোনো উপায় দেখছি না বলে জানান তারেক।

 

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দক্ষিণ সালন্দর গ্রামের রামবাবুর গোডাউন এলাকার আনোয়ার হোসেনের বড় ছেলে তারেক ইসলাম। তিনি ১২ বছর বয়সেই রিকশা প্যাডেল ঘুরিয়ে বাবার সংসারের বোঝা সামলানোর যুদ্ধ শুরু করেন। বিয়ের পর স্ত্রী সুলতানা বেগমকে নিয়ে আলাদা থাকা শুরু করে। সংসার জীবনে তার নয় বছর ও তিন বছর বয়সী আরও দুই মেয়ে সন্তান রয়েছে। তারেক রিকশা চালানোর পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ওয়াজ মাহফিলে সাউন্ড সিস্টেম অপারেটর হিসেবে কাজ করত। কিন্তু করোনার মহামারি শুরুর পর থেকে অনুষ্ঠান না থাকায় তার বাড়তি আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে লকডাউন পরিস্থিতিতে ঠিকমতো রিকশা চালাতে না পেরে অসহনীয় কষ্ট নেমে এসেছে তার পরিবারে।

 

অসহায় রিকশাচালক তারেক ইসলাম তার অসুস্থ শিশু জান্নাতকে বাঁচানোর জন্য সমাজের বৃত্তবান ও দানশীল মানুষদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমার তো সামর্থ্য নেই বাচ্চার অপারেশন করাব। যদি সমাজের বৃত্তবান মানুষেরা এগিয়ে আসে আমি জান্নাতকে বাঁচাতে পারব। বাচ্চার হাসিমাখা মুখটা দেখতে পারব। আল্লাহর অশেষ করুণা আর সবার সহযোগিতা ছাড়া আমার কোনো পথ নেই।

 

শিশু জান্নাতের চিকিৎসার জন্য সাহায্য করতে চাইলে এ নম্বরে (০১৭৭৩৭২২৬০১) বিকাশ করতে পারবেন। অসহায় এ পরিবারের পাশে দাঁড়াতে যোগাযোগ করুন ০১৩২০৫৪১১০৩ নম্বরে। বর্তমানে শিশুটি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে (১৮ নং ওয়ার্ড) চিকিৎসাধীন।

পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরির আরও খবর