1. muktirshongbad@gmail.com : 20dailymuktirshongbadbd.com :
  2. mdkaiumjsc01643@gmail.com : Kaium Hossain :
  3. ramjanbhuiyan84@gmail.com : ramjanbhuiyan :
বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১, ১১:১৪ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
বহুল জনপ্রিয় দৈনিক মুক্তির সংবাদ অনলাইন পত্রিকায় সংবাদকর্মী নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।  বাংলাদেশে বিভিন্ন জেলায়, উপজেলায়,দৈনিক মুক্তির সংবাদ পত্রিকা সংবাদকর্মী নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। সারা বাংলাদেশে বিভিন্ন জেলায়, উপজেলায়, জেলা ব্যুরো প্রধান ও বিভাগীয় ব্যুরো প্রধানে কাজ আগ্রহী প্রার্থীগণ সিভি পাঠাতে পারেন। ন্যূনতম যোগ্যতা এস এস সি পাশ।চূড়ান্ত নির্বাচন প্রক্রিয়া:রিক্রুটিং টিম কোন প্রকার একাডেমিক পরীক্ষার ফল বিবেচনা করবে না। কর্মঠ, সৎ ও কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুগত প্রার্থীদের বাছাই করা হবে।E-mail :  muktirshongbad@gmail.com যোগাযোগ নাম্বার:01752602939/01710006400 ।সম্পাদক ও প্রকাশক,মোঃ মাসুদ মৃধাঃ 01933609066

নো মাস্ক নো সার্ভিস কতটুকু মানছে মানুষ!

  • খবর পাবলিসের সময় বুধবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ২০৯ বার পোস্টটি পড়া হয়েছে

হৃদয় জেলা প্রতিনিধি

প্রথম করোনা শনাক্তের পর পর যেন সোনার হরিন হয়ে যায় মাস্ক।দাম বেড়ে হয়ে যায় ৪-৫ গুনেরও বেশী।হাহাকার পড়ে মাস্ক নিয়ে।গরীব মানুষগুলো তো টাকার জন্য মাস্ক সংগ্রহ করতেও পারেনি।তখন সবে মাত্র করোনা আসলো বলে।আক্রান্তের হার ছিলো যেমন কম ঠিক তেমনি মাস্ক পরা নিয়ে ছিলো তুমুল প্রতিযোগীতা।একের অধিক মাস্ক পরতেও দেখা গেছে।কিন্তু আজ যখন মাস্কের দাম নিম্নমুখী,আজ যখন করোনা সারা দেশ কাঁপাচ্ছে তখন কোথায় গেলো সেই মাস্ক।কোথায় গেলো মানুষের সচেতনতা!শীতে করোনা প্রকট আকার ধারন করতে পারে এবং আসতে পারে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ।বিশেষজ্ঞদের মতে ইতোমধ্যে দ্বিতীয় ঢেউর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশে।করোনা ভাইরাসের সংক্রমণরোধে ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ নীতি ব্যাপকভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।প্রযোজনে সামাজিক আনন্দলন,প্রচারনা ও অভিযান যে ভাবেই হোক এটা নিশ্চিত করতে বলেছেন তিনি।গত ২৫ অক্টোবর মন্ত্রীসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রীপরিষদ সচিব জানিয়েছেন,আসন্ন শীত মৌসুমে করোনা সংক্রমণ আবারো বাড়তে পারে।আরো বলা হয়েছে শীতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসতে পারে।এই আশস্কা থেকে নো মাস্ক নো সার্ভিস নীতি বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কতটুকু কার্যকর এই নীতি?

বাংলাদেশে ৮ মার্চ প্রথম করোনা সনাক্ত পর প্রায় ৮ মাস পেরিয়ে গেলো। এর মাঝে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৪ লাখ ছাড়ালো।১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যু থেকে এই পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৬ হাজার ৪০০ বেশী।আশার কথা হচ্ছে এই পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ৩ লাখ ৫১ হাজারেরও বেশী।করোনার প্রথম ঢেউ রেশ কাটিয়ে দেশের সব কিছু যখন একটু একটু করে স্বাভাবিকের পথে,ঠিক তখনি বলা হচ্ছে শীতে করোনা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে এবং শুরু হতে পারে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। ইতোমধ্যে ২ মাসের ও বেশী সময় পর ১৬ নভেম্বর থেকে প্রতিদিন পের সনাক্ত ২ হাজার অতিক্রম করলো।উর্ধ্বমুখী মৃত্যুর হারও।মাস্ক পরা নিয়ে জনগণের চরম উদাসীনতা জানান দিচ্ছে বাংলাদেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ খুব সম্প্রতি আঘাত হানতে যাচ্ছে।সরকার ও বিভিন্ন সংস্থা থেকে বার বার সচেতনতার কথা বলা হয়েছে।করা হয়েছে সচেতনতা মূলক কেম্পইন।মাস্ক না পরার অপরাধে জরিমানা গুনতে হয়েছে অনেক মানুষকে।এতো কিছুর পরেও সচেতনতা রয়ে গেছে উপেক্ষিত।মাস্ক পরা থেকে বিরত বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ।রাস্তাঘাটে মানুষের চলাফেরা দেখলে মনে হয় না যে বাংলাদেশে মহামারী চলছে।উদাহরণসমূহ বলা যায় পৃথিবীর বৃহত্তম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে বর্তমানে চলছে পর্যটন মৌসুম।করোনার কারনে দৈর্ঘ্য ৫ মাস বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি খোলা হয়।খোলার সময় বলা হয়েছিলো সাস্থাবিধি মেনে চলবে।কিন্তু কোথায় গেলো সেই সাস্থবিধি।ছুটির দিনগুলোতে কক্সবাজারের অবস্থা দেখলে কে বলবে বাংলাদেশে মহামারী চলছে।সম্প্রতি কক্সবাজারে অভিযানে নামে ভ্রাম্যমাণ অদালত।অভিযানের সাথে সাথে পাল্টে যায় পুরো চিত্র।তখন সবার মুখে মুখে দেখা যায় মাস্ক।এই পরিস্থিতি দেখে প্রশ্ন জাগে মানুষ কি সচেতন হয়ে মাস্ক পরলো নাকি ভয়ে।যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভয়ে হয়ে থাকে তাহলে এই সচেতনতার মূল্য কোথায়?

মাস্ক পরা নিয়ে তো ওজুহাতেরও শেষ নেই।কারো সমস্যা নিশ্বাস নিতে সমস্যা হয়,কেউ সমস্যা গরম লাগা আরো কতকিছু!একজন অসচেতন মানুষ মাস্ক না পরে শুধু নিজেকে ঝুকিতে ফেলছে না ঝুকিতে পেলছে তার পরিবার এবং গোটা দেশকে।মাস্ক যে শুধুমাত্র করোনা থেকে রক্ষা করে তা নয় ধুলাবালি ও নানা রকম ভাইরাস থেকে রক্ষা করে।এই প্রসঙ্গে বিজ্ঞানীরা জানান,মানুষ মাস্ক পরে শুধু করোনাভাইরাসকে পরাস্ত করাতে পারবে না তার সাথে লকডাউন পরবর্তী সময় ভাইরাসটির বিপক্ষে লড়ার কার্যকর ও শক্তিশালী অস্ত্র হলো মাস্ক।গবেষণায় দেখা গেছে,কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে তা টের পাওয়ার ২৪-৪৮ ঘণ্টা আগে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।আবার কারো কারো ক্ষেত্রে দেখা গেছে আক্রান্ত হলেও কোনো উপসর্গ নেই।এই জন্যই বেড়ে গেছে মাস্কের গুরুত্ব।হাঁচি,কাশি এমনকি কথা বলার সময় মুখ থেকে বের হওয়া ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জলকণায় ভর করে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে।এগুলো সরাসরি চোখ,নাক ও মুখের মাধ্যমে দেহে ঢুকতে পারে।আবার ভাইরাসগুলো কোনো পৃষ্টতলে পড়লে তা স্পর্শের মাধ্যমে পরোক্ষভাবেও শরীরে ঢুকতে পারে।তাইতো নুন্যতম স্বাস্থ্যবিধি হিসেবে মাস্ক পরার বিকল্প নেই।এমতাবস্থায় মন্ত্রীসভার বৈঠক থেকে ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।বলা হয়েছে মাস্ক না পরলে সরকারি ও বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে কোনো রকম সেবা মিলবে না।এই প্রসঙ্গতে মন্ত্রীপরিষদ সচিব বলছেন সব জায়গায়,সব প্রতিষ্ঠান,হাট বাজার বা শপিংমল,শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক ও ধর্মীয় সম্মেলনে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।তিনি আরো বলেন,সব সরকারি ও বেসরকারি অফিসের বাইরে বড় একটি পোস্টারের মতো থাকবে।মাস্ক ছাড়া কেউ প্রবেশ অধিকার পাবে না এবং ইসলামি ফাউন্ডেশনকে দিনে দুই বার নামাজের পর প্রচার করতে বলা হয়েছে যে অবশ্যই মাস্ক পড়তে হবে।কিন্তু বাস্তবের চিত্র হচ্ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান,শপিংমল,অফিস-আদালতের সামনে লিখা আছে মাস্ক ছাড়া সেবা মিলবে না কিন্তু সেবা ঠিকিতো দেয়া হচ্ছে।নজরদারী নাই কারো।এরিমধ্য রাজধানী সহ দেশে অনেক জেলা ও উপজেলাতে অভিযান চলমান।দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা ও সচেতন করা হচ্ছে জনগণকে,বিতরণ করা হয়েছে মাস্ক।কিন্তু এতে কতটাইবা সচেতন হচ্ছে মানুষ।কতোটাইবা সচেতন হলো মানুষ বিবেক।আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যতক্ষণ অভিযান করে ঠিক ততক্ষণ সচেতন মানুষ।এর পরতো ঠিক আগের অবস্থা।তাহলে এটাকে কি সচেতনতা বলা যায় নাকি ভয়!মানুষ সামান্য জরিমানার ভয়ে মাস্ক পরছে কিন্তু তাকে তো বুঝানো যাচ্ছে না যে করোনার ভয়াবহতা।মানুষ সচেতন না হলে এমন আইনি অভিযানে কতোটা সুফল আসবে তা নিয়ে তো প্রশ্ন থেকেই যায়।সর্বোপরি,করেনার এই যুদ্ধে জয়ের একমাত্র হাতিয়ার জনসচেতনতা।সবার আবশ্যই মনে রাখা দরকার ভয় নয় সচেতনতাই জয়।

              মোহাম্মদ নাদের হোসেন ভূঁইয়া
    শিক্ষার্থী-জয়নাল হাজারী কলেজ,ফেণী

পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরির আরও খবর