1. muktirshongbad@gmail.com : 20dailymuktirshongbadbd.com :
  2. mdkaiumjsc01643@gmail.com : Kaium Hossain :
  3. ramjanbhuiyan84@gmail.com : ramjanbhuiyan :
সোমবার, ০২ অগাস্ট ২০২১, ১০:৩২ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
বহুল জনপ্রিয় দৈনিক মুক্তির সংবাদ অনলাইন পত্রিকায় সংবাদকর্মী নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।  বাংলাদেশে বিভিন্ন জেলায়, উপজেলায়,দৈনিক মুক্তির সংবাদ পত্রিকা সংবাদকর্মী নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। সারা বাংলাদেশে বিভিন্ন জেলায়, উপজেলায়, জেলা ব্যুরো প্রধান ও বিভাগীয় ব্যুরো প্রধানে কাজ আগ্রহী প্রার্থীগণ সিভি পাঠাতে পারেন। ন্যূনতম যোগ্যতা এস এস সি পাশ।চূড়ান্ত নির্বাচন প্রক্রিয়া:রিক্রুটিং টিম কোন প্রকার একাডেমিক পরীক্ষার ফল বিবেচনা করবে না। কর্মঠ, সৎ ও কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুগত প্রার্থীদের বাছাই করা হবে।E-mail :  muktirshongbad@gmail.com যোগাযোগ নাম্বার:01752602939/01710006400 ।সম্পাদক ও প্রকাশক,মোঃ মাসুদ মৃধাঃ 01933609066

কিছুটা বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার সমস্যায় পড়তে হয় চর ঈশ্বরদীয়া গ্রামের এলাকাবাসীর

  • খবর পাবলিসের সময় মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ১২২ বার পোস্টটি পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার : বৃষ্টির পানিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় মানবেতর জীবন যাপন করছে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চর ঈশ্বরদিয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ। বর্ষাকলের এই দূর্ভোগ বিগত ছয়/সাত বছর যাবত চলতে থাকলেও এবছর প্রকট আকার ধারন করেছে।

দীর্ঘ তিন মাস ধরে পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে ৬নং চর ঈশ্বরদিয়া ইউনিয়নের আলালপুর, বাজিতপুর, বড়বিলা ও চর হরিপুরের মানুষ। বর্ষাকলের বৃষ্টির পানিতে এই জলাবদ্ধতা স্থায়ী হয়ে নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী দূর্ভোগে রুপ নিয়েছে। বিগত কয়েক বছর যাবত স্থানীয় জনপ্রতিধিসহ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের কাছে সমস্যা সমাধানে আবেদন জানিয়েও কোন সুরাহা পায়নি ইউনিয়নের ৪ গ্রামের হাজারো মানুষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ৬ নম্বর চর ঈশ্বরদিয়া ইউনিয়নের বাজিতপুর, বড়বিলা ও আলালপুর, হরিপুর গ্রামের রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। অধিকাংশ বাড়ীর বসতঘর, রান্নাঘর, এমনকি ল্যট্রিনের ভেতর এখনো হাটুপানি স্থির হয়ে আছে। এছাড়া এই চার গ্রামের প্রায় ১ হাজার একর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে আছে ফলে কৃষকরা চলতি আমন ধানের চাষ করতে পারছে না। এমনকি এই জলাবদ্ধতার কারনে স্থানীয় পুকুর ও ফিসারীর কয়েক কোটি টাকার মাছ ভেসে গিয়ে ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে মৎস চাষীরা।

স্থানীয়রা জানান, বিগত কয়েক বছরে কৃষি জমিতে অপরিকল্পিভাবে মৎস খামার গড়ে উঠার ফলে এবং স্থানীয় চিরনখালী ও কাঁটাখালী খাল দখল করে প্রভাবশালীদের মাছ চাষের ফলে পানি নিষ্কাশনের প্রতিবন্ধকতা তৈরী হওয়ায় কয়েকটি গ্রামে জলাবদ্ধতা স্থায়ী রূপ নিয়েছে। ফলে একদিকে যেমন মানুষের চরম দূর্ভোগ বেড়েছে অন্যদিকে ধান চাষ,শাক সবজি ও মৎস খাতের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

প্রশাসনের ব্যর্থতা উল্লেখ করে স্থানীয়রা বলেন, বিভিন্ন সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে মৌখিক ভাবে আবগত করাসহ বিগত ২০১৭ সালে এই দূর্ভোগের কথা লিখিতভাবে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে জানালেও কোন সমাধান পায়নি এলাকাবাসী। এই জলাবদ্ধতা নিরসনে সবশেষ গত ১৫ সেপ্টেম্বর এলাকাবাসী সামধানের উপায় জানিয়ে প্রশাসনের কাছে একটি আবেদন করেছে, যাতে চর কৃষ্ণপুর হতে মোজারদি হয়ে কদমতলী বাঘমারা ব্রীজ পর্যন্ত পানি চলাচলের প্রতিবদ্ধকতা এবং ছোট ছোট বাধগুলো আপসারণের দাবী জানানো হয়।

বাজিতপুর গ্রামের গৃহিনী শামসুনাহার বলেন, কয়েক মাস যাবত রান্না ঘরের চুলা পানিতে তুলিয়ে গেছে ফলে রান্না করেত পারছি না। অনেক কষ্ট করে বসত ঘরের মেঝেতে একবেলা রান্না করে তিন বেলা খাচ্ছি।

আলালপুর গ্রামের গৃহবধূ জানান,“পানিবন্দি অবস্থায় সবচাইতে বেশি ভয়ে আছি ছোট শিশু ছেলেকে নিয়ে। বাড়ির ভেতর কয়েক মাস যাবত পানি, ছোট ছেলেটি যেকোন পানিতে পড়ে যেতে পারে তাই সবসময় তাকে কোলে নিয়ে ঘরের কাজ করতে হয়।

হরিপুর গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন জানান, বাড়ীর হাস, মুরগি, গরু, ছাগলের খাদ্য সঙ্কটও দেখা দিয়েছে। তাই এলাকার অনেকে গরু ছাগল কম দামে বিক্রি করে দিয়েছে।

আলালপুরের আকাশ আটো রাইস মিলের মালিক জয়নাল আবেদিন জানান, দুই মাস যাবত আমার মিলের ভেতর পানি থাকায় আমি ধান ও চাল শুকাতে পারছি না। ফলে আমি ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। তিনি আরো বলেন, আমার মিলের সাতে চলতি বছরে সরকারী গুদামে ধান সরবরাহের চুক্তি থাকলেও ধান শুকাতে না পারায় তা দিতে পারিনি ফলে আমার জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছি।

চর ঈশ্বরদিয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা জিয়াউল হাসান ইমরান বলেন, প্রায় তিন মাস যাবত তারা পানিবন্দি জীবনযাপন করছেন। তাদের রাত কাটে সাপের আতঙ্কে, দিন কাটে শিশু সন্তান পানিতে পড়ার ভয়ে। এ ছাড়াও দীর্ঘদিন পানিবন্দি থাকার কারণে গ্রামের শিশুরা বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে ভুগছে।

চর ঈশ্বরদিয়া ইউনিয়নের ৭ নং ওর্য়াড মেম্বার মো: ঈয়াসিন সরকার জানান, স্থানীয় বেশ কিছু লোক ধান চাষ বাদ দিয়ে জমিতে মৎস খামার তৈরীর ফলে পানি নিষ্কাশনে বিভিন্ন স্থানে ছোট বড় বাধার সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে গত কয়েক বছর যাবত বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে সাধারন মানুষের চরম দূর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ৬ নম্বর চর ঈশ্বরদিয়ার জলাবদ্ধতা নিরসনে যত দ্রুত সম্ভব খাল গুলো উদ্ধার বা খনন করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে। যদি কেউ অপরিকল্পিতভাবে সরকারি খাল-বিল (খাসজমি) দখল করে যারা ফিসারি তৈরি করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে

পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরির আরও খবর